আমার ব্লগে আপনাকে স্বাগতম

এই ব্লগে আসার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা যদি ভালো লাগে তবে মন্তব্য দিন। আপনার মন্তব্য আমার লেখা উন্নয়নে সহায়তা করবে। পড়তে থাকুন এবং নিয়মিত চোখ রাখুন।

ফেসবুকে পছন্দ করেছেন

বুধবার, ৬ মার্চ, ২০১৩

দূরত্ব প্রয়োজন..


এইত আছি কত কাছে,
দেহের কাছে, হৃদয়ের কাছে, চিন্তার কাছে,
অনেক অনেক বেশি কাছে আছি বলে-
প্রয়োজনটা বেশ কমে যাচ্ছে দিনদিন,
তাই দূরত্ব বুঝি প্রয়োজন।

ঘুড়ি আর নাটাই যদি থাকে কাছাকাছি
তবে এর সার্থকতাই কি আছে?
মুক্ত আকাশে উড়বে ঘুড়ি, যুক্ত থেকে নাটাই সুতোয়,
তবেই না জমবে খেলা।
উড়ে উড়ে ঘুড়ি যাবে যতই দূরে, 
মন যেন ভরে উঠে উৎফুল্লতার সুরে।
আবার দিন শেষে শেষ হবে খেলা, ভাঙবে মেলা
দূর হবে নাটাই ঘুড়ির দূরত্ব; তবেই না সার্থকতা।

তেমনি করে ভালবাসা বুঝতে হলেও প্রয়োজন দূরত্ব
হৃদয়ের টান থাকবে অটুট কিন্তু সরে যেতে হবে দূরে,
সরে যেতে হবে চোখের কাছ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে।
চোখের এই আড়াল তখনই বাড়াবে টান, বাড়বে প্রেম।
প্রতি মুহূর্তে পুরনো স্মৃতির পাতা উল্টে সামনে খুলে যাবে,
কাছে থাকার, ভালোলাগার মুহূর্তগুলো ফিরে পেতে চাইবে মন।
আস্তে আস্তে নবায়ন হবে ভালবাসা, 
আরেকটাবার প্রেমে পড়ার ইচ্ছেরাও প্রবল থেকে প্রবলতর।
খুব বেশি সময়ের দূরত্ব-
ভালবাসার মেয়াদ শেষ করে দেবারও সম্ভবনা রাখে;
ঠিক যেমনি সুতো কাটা ঘুড়ি উড়তে পারে না বেশিক্ষণ।

অনেক ভেবে আজ মনে হয়, হঠাৎ করে মাঝে মাঝে, 
জীবনের প্রয়োজন করতে অনুধাবন, 
কিছু সময়ের জন্য হলেও দূরত্ব বড় বেশি প্রয়োজন।

শুক্রবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

অবাক লাগতেই পারে…




খুব অবাক লাগে জানো, যখনই দেখি পাহাড়কে।
অবাক তখনও লাগে, যখন দেখি সাগর;
আকাশটা তো আরও বেশি ভাবায় আমায়
এই যে আকাশের বিশালতা আর অসীম-ব্যাপী ব্যাপকতা,
ছোট বড় কত কিছুই না বুকে ধরে রাখার সফলতা।
কত ছুটোছুটি আর হুটোপুটির মাঝেও আশ্চর্য নীরবতা।
আবার কখনো বা এই অখণ্ড বিস্তীর্ণতায় চোখে পড়ে গভীরতা।

মানুষগুলো দেখলে আরও অবাক লাগে জানো,
ছোট্ট হৃদয়টিতে ধরে রাখা কতইনা কথকতা।
কখনও পাহাড়সম এই বিশালতা, কখনও সাগর, 
কখনও আকাশসম ব্যাকুলতা।
বিচ্ছিন্ন বা নিরবচ্ছিন্ন ভাবনার সুতো বুনে চলা অবিরাম,
যেন রুপকথার চাদের বুড়ির চরকা কাঁটার মত,
নেই কোন বিরাম-
কোটি কোটি নিউরন, নেফ্রন এবং সেলের অক্লান্ত কর্মযজ্ঞের।

রন্ধ্রে প্রবাহিত রক্তের মাঝের অগণিত রক্ত কণিকারা ব্যস্ত
একক থেকে একান্তরে, কোষ থেকে কোষান্তরে নিরন্তর আনাগোনায়।
কি দুরন্ত এই ছুটে চলার কর্মস্প্রিহা, কত সরল, কঠিনে মিশ্রণে,
বিস্তীর্ণ, ব্যাপক তাদের কারিক্রম-
যেন সৃষ্টির সেরা এই সৃষ্টিতে প্রতিনিয়ত এক মহাবিশ্বের অনাসৃষ্টি।

শনিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১২

প্রাগৈতিহাসিক

বেশ কিছুদিন যাবত তেমন কোন কাজকম্ম নাই বিধায় প্রচুর অবসর সময় পাইয়াছিলাম। এই সময়ে বেশ কিছু বই পড়িলাম। আশেপাশের বিভিন্ন কাণ্ডকারখানা নজরে আসিল। ব্যস্ত থাকিতে হয়ত সেগুলোকে তেমন আমল দিতাম না। সবচেয়ে বেশি যে গল্পটা পারিপার্শ্বিকতার সাপেক্ষে মনে সর্বাধিক দাগ কাটিয়াছে সেটি হইল “মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়” এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছোটগল্প “প্রাগৈতিহাসিক”। যাহারা গল্পটি পড়িয়াছেন, তাদেরকে তো আর নতুন করে কিছু বলিবার নাই। তবুও একটু না বলিলেই নয়, গল্পটিতে মানুষের আদিম প্রবৃত্তির রুপায়ন, দক্ষতা, আকাঁড়া বাস্তবতা ও পরিণতির দার্শনিকতার ব্যঞ্জনা খুব সুন্দরভাবে ফুটাইয়া তোলার চেষ্টা করা হইয়াছে। সবচেয়ে বেশি আলোকপাত করা হইয়াছে কামভাবের অপরিণামদর্শী প্রভাবের উপর। মানুষ যখন কামান্ধ হইয়া সভ্যতা ভুলিয়া আদিম মাদকতায় উপনীত হয়, তখন তাহাকে আজকের সভ্যতায় মানসিক বিকারগ্রস্থ ছাড়া আর বলিবার কিছুই থাকে না। আধুনিক এবং উন্নত প্রজাতির অনেকেই হয়ত বলিবেন কাম মানুষ সৃষ্টির এবং বংশবৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম। তাই এতে দোষের কিছু নাই। তাহাদের অবগতির জন্য বলি, মানুষ আর জানোয়ারের মধ্যকার পার্থক্য হইতেছে চিন্তাশক্তি। জানোয়ারের শুধুই খাওয়া, বাঁচা আর বংশবৃদ্ধি পর্যন্তই সীমাবদ্ধতা রহিয়াছে। আর মহান সৃষ্টিকর্তা মানুষকে সৃষ্টির সেরা করে সৃষ্টি করিয়াছেন। মানুষকে দিয়াছেন সভ্যতা গড়ে তোলার মত চিন্তাশক্তি। দিয়েছেন উন্নত হওয়ার মত বুদ্ধিমত্তা। সেই মানুষ যখন নিছক পাপিষ্ঠ কামের অনুরণনে মজে নিজের মনুষ্যত্বকে বিলায়ে দেয়, তাহাকে চিড়িয়াখানায় বন্দি করিয়া রাখাই আমি উপযুক্ত মনে করি। 

বেশ কিছুদিন যাবত এহেন কিছু কর্মকাণ্ড দেখিয়া আমি যারপরনাই অবাক। এই মনুষ্যত্ব বিবর্জিত কাজ যাহারা করিতেছেন, তাহারা আবার ইহাকে শাশ্বত, পবিত্র প্রেম বলিয়া চালানোর চেষ্টা করিতেছেন। তাহারা বলিতেছেন, “দেখে সে ভাব কইতে মানা, ভাবুক বিনা কেউ জানেনা।“ অথবা বলিতেছে “গোপী তো একাধিক থাকতেই পারে। কিন্তু রাধা তো কৃষ্ণের মনের রানী”। সাধারন বিচারে নাকি উনাদের বিচার করা যাইবে না। আমি বলি, নির্লজ্জতার চরম অবস্থানে না পৌছিলে কেহ এমন চিন্তাও করিতে পারে না। আধুনিকতার দোহাই দিয়া তাহাদের এহেন কাজকর্ম প্রাগৈতিহাসিক যুগের কথাই বারবার মনে করাইয়া দিতেছে। দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়া কোন এক কারনে মন্তব্য করিয়াছিলাম, “হায় অভাব, হায় দুর্ভিক্ষ, পচা মাংস নিয়াও আজকাল কাকে, শকুনে আর মানুষে টানাটানি করে।“ সৃষ্টিকর্তার কাছে আমার প্রার্থনা, যেন উনি মানসিক বিকারগ্রস্থ এবং পাপিষ্ঠ কামের ধুম্রজালে আবদ্ধ এই মানুষগুলোকে হেদায়েত দান করেন। যদি উনারা হেদায়েত প্রাপ্তির অযোগ্য হন, তবে যেন সৃষ্টিকর্তা উনাদের ধ্বংস করিয়া দেন। কারন এই লোকগুলো সংক্রমিত করিয়া ফেলিবে পুরো সমাজ, দেশ, তথা জাতিকে।

রবিবার, ২৯ জুলাই, ২০১২

কবিতা আজ লিখবোই


আজ রাতে কবিতা লিখব
ঘুমুতে দেব না শব্দ দের কে
নিঃশব্দ রাখব না আর আবেগ
কলমের আঘাতে 
ক্ষত বিক্ষত হবে আজ কবিতার খাতা
কলমের রক্ত ঝরিয়ে হলেও লিখব কবিতা
লিখব কবিতা আজ রাতে।

নির্ঝরা স্বপ্নগুলোকে
আজ ঝরিয়েই ছাড়ব।
বুক আঁকড়ে পরে আছে অনেকদিন হয়,
কান্না হয়েও বেরিয়ে আসে না তারা
আজ কলমের ডগা দিয়ে
খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বের করে আনব
লিখব কবিতা আজ রাতে।

নালিশ জানালাম ভাবের দরজায়
জানালাম শব্দদের সেচ্ছাচারিতার কথা
বলেছিল অপেক্ষা করতে...
অপেক্ষায় থেকে থেকে অতিষ্ঠ, বিরক্ত আমি
আজ পিঠ থেকে গেছে দেয়ালে
তাইত বিধ্বংসী মনোভাবে
যুদ্ধংদেহী হয়ে বসেছি
লিখবোই কবিতা আজ রাতে।

লিখতে লিখতেই ভাবছি
আজ আর শুনব না কারো কথা
মানবো না নিয়ম, শাসন,
দেখবোনা ব্যকরন, সন্ধি কিংবা সমাস
কিংবা ণত্ব ষত্ব বিধান
ধার ধারব না আজ কোন কালের
ধার ধারব না ছন্দবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত বা অক্ষরবৃত্তের
যে করেই হোক আজ লিখবোই
লিখবোই কবিতা আজ রাতে।

রবিবার, ২২ জুলাই, ২০১২

পাপিষ্ঠ কামের অনুরণন


অব্যাক্ত বোবা কান্না,
কষ্টের সুগঠিত ধূলিকণায় মিশে
নিরাশার অনন্ত মরুভূমি মাঝে,
ধূসর আবহ করে সৃষ্টি।
সেই আবহমান ধূসরতা ঘেরা জীবন যখন,
তখনও ছাড়ে না পিছু
নির্লিপ্ত নির্লজ্জ কামুকতা।

অদ্ভুত এই কামনা,
না বোঝে সময়,
না মানে নিয়ম, শাসন,
পরিক্রমা তার নির্লজ্জ এতটাই,
ক্ষুধিতের দেহেই নাকি অধিক বিচরণ।
নির্লিপ্ত স্খলনে
কষ্ট ঝেড়ে সুখী হতে চাওয়া যেন।

এরই মাঝে....
চারিদিকে আবার উলঙ্গ উন্মাদনা
মন না জাগলেও,
শরীর জেগে উঠে প্রতিক্ষণ, অকারন
যদিও এখনও আছে আরও কিছু শব্দ গোপন
সত্য হয়না মিথ্যা হলেও অকথ্য
কারনে অকারনে শত বারণেও জাগ্রত।

মুমূর্ষ নিস্তেজ বিবেকের জাগরন
ঠিক তখনই হওয়া চাই
যখনই মন কেঁপে উঠে
পাপিষ্ঠ কামের অনুরণনে।।

    trafficG