আমার ব্লগে আপনাকে স্বাগতম

এই ব্লগে আসার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা যদি ভালো লাগে তবে মন্তব্য দিন। আপনার মন্তব্য আমার লেখা উন্নয়নে সহায়তা করবে। পড়তে থাকুন এবং নিয়মিত চোখ রাখুন।

ফেসবুকে পছন্দ করেছেন

শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১১

লবনের(Salt) লবনাক্ত কথন

লবনের লবনাক্ত কথন


“লবন” নামক বস্তুটির সাথে আমরা সবাই কম বেশী পরিচিত। একে হিন্দিতে “নামাক” এবং ইংরেজিতে “সল্ট” বলা হয়। আমরা প্রায়ই একটা কথা শুনি যে “নুন খাই যার গুন গাই তার”। আবার রুপকথার গল্প বা ঠাকুমার ঝুলির গল্পে আমরা “নুনের মত ভালবাসা”-এর সন্ধান পাই। “নিমকহারাম” শব্দটিও শুনি অনেক জায়গায়, এটি বেঈমান বোঝাতে ব্যাবহার করা হয়। আবার এও শুনি যে “ছিল্লা কাইট্টা লবন লাগায়া দিমু” বা “কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা”। তো এই নুন ওরফে নামাক ওরফে লবন ওরফে Salt নিয়ে আজকের এই লেখা।


**এক সময় বাংলাদেশে লবনের খুব দাম ছিল। গরুর গোস্তের মূল্যের চারগুন। মানুষ ও গবাদিপশুর বেঁচে থাকার জন্য লবন অত্যাবশ্যকীয় ছিল। সেগুলো ছিল লাল লবন। এজন্যই একটি কথা প্রচলিত আছে যে “নুন আনতে পান্তা ফুরায়”।

**ফ্রান্সের কোন কোন জায়গায় এখন প্রাচীন পদ্ধতিতে লবন আহরন করা হয়। আহরনের সময় বিশেষ ধরনের বাক্স ব্যাবহার করে সামুদ্রিক জল সেচে নেয়া হয়। এজন্য এ লবনের দাম ও খুব বেশী। এটা মিহি এবং শুধু উপরি প্রয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয়, রান্নার জন্য ব্যবহার হয় না।


**মাত্রাতিরিক্ত লবন খাওয়া প্রাণঘাতী হতে পারে। দেহের প্রতি কিলোগ্রাম ওজনের হিসাবে ১ গ্রাম করে লবন খেলে মৃত্যু অনিবার্য। একসময় চীনে এভাবে লবন খেয়ে আত্মহত্যার প্রবনতা ছিল।


**বিংশ শতাব্দীর আগ পর্যন্ত লবনের পাউন্ড বার ছিল আবিসিনিয়া (বর্তমানে যার নাম ইথিওপিয়া)- এর মূল মুদ্রা।


**দেহের জন্য লবন খুব আবশ্যক। আপনি যদি বেশী পানি পান করেন তাহলে তা সেই লবন ধুয়ে দিয়ে প্রাণঘাতী নাতিউষ্ণতা সৃষ্টি করতে পারে।


**ভালো মানের সামুদ্রিক লবনে দেহের প্রয়োজনীয় অনেক খনিজ আছে। সর্বোত্তম মানের খনিজ লবন আংশিক ভেজা থাকে।

**মধ্যযুগে লবণকে “সাদা সোনা” বলে অভিহিত করা হত। লবন পরিবহনের একটি প্রাচীন পথ জার্মানিতে এখনও আছে। এটি Luneburg স্থলপথ থেকে জার্মান বাল্টিক কোস্ট পর্যন্ত বিস্তৃত।


**বলিভিয়ায় রয়েছে অত্যন্ত চমকপ্রদ বিশ্বের বৃহত্তম লবনের ফ্ল্যাট। একে Salar de Uzuni বলা হয়। এর বিস্তার চার হাজার বর্গমাইল। এর উপর যখন পানির পাতলা স্তর জমে তখন এটি আয়না সদৃশ হয়ে উঠে। এই অবস্তায় এটি একটি প্রতিবিম্বন সম্পর্কিত উপযোগী বৈজ্ঞানিক যন্ত্র হয়ে উঠে।

**লবন জলের সাথে একধরনের বীজ মিশিয়ে ভারতে কালো লবন তৈরি করা হয়।

**সাধারনত একটি ভুল ধারনা আছে যে, রোমের সৈন্যদের লবনের মাধ্যমে বেতন (যা থেকে Salary শব্দটির উৎপত্তি) দেয়া হত।


**পাথর পরিবারের মধ্যে এটিই একমাত্র পণ্য যা মানুষ খেয়ে থাকে।


**মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত লবনের ৬% ব্যবহার হয় খাদ্যে। ১৭% হয় শীতকালে রাস্তা ও অন্তঃরাজ্যের হাইওয়ে বরফমুক্ত করার জন্য।


**১৭ শতক পর্যন্ত ক্যারিবিয়া থেকে উত্তর আমেরিকায় চলাচলকারী মালবাহী জাহাজে লবন ছিল প্রধান কার্গো। অন্যদিকে উত্তর আমেরিকা থেকে ক্যারিবিয়ায় বহন করে আনা হত Salt Cod - যা আঁখ চাষিদের খাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হতো।

সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১১

(Secret & Power Of Five 5!!!!!!)

৫ এর শক্তি ও রহস্য!!!!!!!
 
গত কিছুদিন যাবত একটা বিষয় নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করছি। আমার এ পর্যন্ত পাওয়া উপাত্ত আপনাদের শেয়ার করার জন্যই এই পোস্ট।
সুরা ওয়াকিয়ায় আল্লাহপাক অস্তমিত তারার কসম খেয়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় দুই ধরনের তারার সন্ধান পাওয়া যায়।

১. ছয় কোনা বিশিষ্ট তারা যাকে ডেভিড’স স্টার বলা হয়।
এবং

২. পাঁচ কোনা বিশিষ্ট তারা।


বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ভাবে সকল জিওমেট্রিকাল যন্ত্রপাতি ব্যাবহার করে দেখেছেন যে পাঁচ কোনা বিশিষ্ট তারার অস্তমিত রূপ বা পেন্টাগন রূপ জিওমেট্রিক্যালি সবচেয়ে শক্তিশালী।

 
পাঁচ এর কিছু নিদর্শনঃ

**আমাদের শরীরের ক্ষুদ্র অংশ বা DNA এর স্ট্রাকচার এর মূলে আছে এই পেন্টাগন।


**আমাদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত প্রায় সব জায়গায় আছে এই পেন্টাগনের ছোঁয়া।


**বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী হেডকোয়ার্টার টির নামই শুধু পেন্টাগন নয়, এর আকৃতিও পেন্টাগন।

**হোয়াইট হাউসের সম্মুখ ভাগের স্ট্রাকচারে আছে পেন্টাগন।

**ওয়াশিংটন মনুমেন্ট এর উচ্চতা ৫৫৫ মিটার।

**গুগল আর্থ থেকে ওয়াশিংটন ডি.সি. কে দেখলে দেখা যায় এক বিশাল পাঁচ কোনা তারা। যার শীর্ষে আছে হোয়াইট হাউস।

**আমাদের দেহে ক্রোমোজোম সংখ্যা ২৩ জোড়া। ২+৩=৫ এখানে পাঁচের ছোঁয়া।

**আমাদের দাঁত হয় সর্বোচ্চ ৩২ টি। ৩+২=৫ এখানেও আছে পাঁচ।


**হাতের আঙ্গুল পাঁচটি, পায়ের আঙ্গুল ৫ টি।


**আমাদের শরীরের প্রধান শিরা গুলোর মোট দৈর্ঘ্য ৫ দ্বারা বিভাজ্য।


**আমাদের ইন্দ্রিয় ও পাঁচটি।


**মুসলমানদের ধর্মীয় রুকন পাঁচটি। নামাজ ৫ ওয়াক্ত।

** পিরামিডের তল পাঁচটা। এজন্যই পিরামিড এতো বেশী রহস্যময়।

**হিন্দু ধর্মেও আছে পাঁচের ছড়াছড়ি। যেমনঃ পঞ্চভূত ( ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ ও ব্যোম।), পঞ্চপাণ্ডব, পঞ্চরত্ন।


**প্রধান পূজনীয় হিন্দু পূজাও পাঁচটি। অর্থাৎ দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গনেশ, কার্ত্তিক।


**পঞ্চপ্রান, যারা জীব দেহের জীবনীশক্তিসমুহ, যারা আত্মাকে পুজা করে। সেগুলঃ প্রাণবায়ু, অপানবায়ু, সমানবায়ু, ব্যানবায়ু, উদানবায়ু।

**বিচার ব্যাবস্থায় সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী সংগঠন হোল পঞ্চায়েত।
**বিশ্বের সবচেয়ে বড় মোবাইল কোম্পানি N O K I A অক্ষর পাঁচটি। 
**সবচেয়ে বড় কম্পিউটার কোম্পানি I N T E L অক্ষর পাঁচটি। আরেক সেরা কোম্পানি A P P L E ও কিন্তু পাঁচ অক্ষরের।
**ইংরেজি ভাষার ভাওয়েল পাঁচটা...... A, E, I, O, U এবং বাংলা ভাষার বর্গ ও পাঁচটা....... ক, চ, ট, ত, প
**আমাদের চারপাশে পৃথিবী গঠনের মৌলিক উপাদান ও পাঁচটা বায়ু, পানি, আগুন, মাটি, সূর্য

আপনি কি বলতে চান যে, এই সবগুলো ঘটনাই কাকতালীয়???
 
এছাড়াও যদি ৫ দিয়ে কোন ব্যাপার আপনাদের চোখে পরে বা জানা থাকে তবে এখানে শেয়ার করে আমার পোস্টকে পূর্ণতা দিবেন আশাকরি।

সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১১

বিদীর্ণ বুকের পাঁজর


বিদীর্ণ বুকের পাঁজর
-আল ইমরান
বিদীর্ণ বুকের পাঁজরে,
ভালবাসা নামের এক একটি পেরেক ঠুকে
বক্ষ পিঞ্জরে চলে নিঃশ্বাসের গোলামী।
বিমূর্ত ছায়ার অদৃশ্য কোন লালিমায়
আপ্লুত আবেগ বরফে ঢাকা শতদল বর্ষা মেঘে
অজানা পথিক চলে দুরের কোন চেনা গন্তব্যে,
জীবাশ্ম এই পথে রেখে অসংখ্য পদচিহ্ন,
মমি করে যেথা কফিনে ভরা
আমার অদৃশ্য আবেগ।।

নির্ঘুম কুহকের চিৎকারে,

সুবিশাল নিঝুম অরণ্য থেকে
দলবেঁধে উড়ে যায় দোয়েলের ঝাঁক
উড়ে যায় বিষাদ নীলিমা ছেড়ে বিষণ্ণতার ঘরে।
সৈকত বালিতে যাযাবর জোনাক হয়ে,
ঝিঁঝিঁ পোকার বাগানে হানা দেয়
একদল মরুভূমির জলদস্যু।।


নির্জন বিকেল শেষে অন্ধকারে নিমগ্ন রাতের আকাশ
চাঁদের হেয়ালির ফাঁকে উঠে এলো রেজোয়ান।
তখনই প্রচণ্ড বেগে ধেয়ে এলো সাইমুম,
লন্ড ভন্ড করে দিলো দেবানন্দে থাকা কোন অপ্সরীর ঘুম।
আলপিন ফোটানো যন্ত্রণার এক নির্ঘুম সকাল,
পরিণত হয় শ্রাবণ ঝরা সজল বিকালে।
পলাশের গন্ধে ছুটে নামে রিনঝিন মেঘরুদ্র।।
 

মনের গহিনে চাঁদের বুড়ি মত
উঁকি দেয় কোন এক বনসাই মেয়ে...
যেখানে ভোরের প্রথম আলোয়,
ধ্যানমগ্ন একজন নীলসাধু আমায় সুধায়
কেন এই কবিতা তোমার....
উত্তরে বলি------
এই মন যে আমার ইচ্ছেঘুড়ি
মন যা চায় তাই লিখে ফেলি।।

*******************

রবিবার, ২৮ আগস্ট, ২০১১

"নিস্তব্ধ অন্ধকার"



নিস্তব্ধ বিকেলের নিরবতা ভেঙ্গে
একঝাঁক কাঁকের কর্কশ চিৎকারে
যখন আন্দোলিত হয় চারিপাশ-
তখন,- তীব্র মানসিক যন্ত্রণায়
কাতরাতে থাকে বিবাগী মন।।

শেষ বিকেলের আলো শেষ হয়ে গেলেও

এখনও যায়নি মুছে তার লালিমা
ছোট্ট ছোট্ট মেঘপুঞ্জ উড়ছে হেথা সেথা
দেখে যেন মনে হয়,
এ আকাশের রক্তাক্ত, ব্যথিত মুখচ্ছবি।

ক্লান্ত পথিকের ঘরে ফেরা আর

কর্মব্যস্ততার কোলাহল থেমে
চারিপাশে যেন ঘিরে ধরে নিস্তব্ধতা।।

এ অসহ্য....... কেন??? কেন???

কেন এত বেশি নিস্তব্ধতায় ডুবে আছি
লোকচক্ষুর অন্তরালে....
এ কোন ঝড় উঠেছে এই বুকে??

ঝড়ের তোড়ে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে

পংতিমালা যত সাজানো ছিল মনে।
দুর্বোধ্য, দুর্ভেদ্য এ অন্ধকার,
প্রচণ্ড শূন্যতার হাহাকার
আমাকে ঘিরে ধরছে কেন???

কে দেবে উত্তর, ঐ কাঁক, ঐ সন্ধ্যে

নাকি ঐ নীলাভ আকাশ??
এরা উত্তর দিতে জানে না,
এরা উত্তর দিতে পারে না।
যে জানে সে তো চলে গেছে দূরে
দূর থেকে দূরান্তরে..... বহুদূরে,
শুধু রেখে গেছে বিচ্ছিন্ন আমায়
নিস্তব্ধ এ কোন অন্ধকারে।।
*******************

বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১১

মধ্যম কবিতা




১.
তুই তুই আর তুই
ভাবনাতে তোকে ছুঁই
আমার মাঝের আমি
সকাল দুপুর সন্ধ্যা শুধায়
তোর প্রেম কি আমার কাছে,
সবচাইতে দামি??


২.
ভালবাস আর ভালবাসি
অকারনেই হাসাহাসি
এই তুমি আর সেই তুমি মিলে
বসে যখন পাশাপাশি
তুমি যদি ভালোবাসো
দূরে দূরে কেনো থাক
কাছাকাছি এসো আমার
কান পাত বুকে মাঝামাঝি।


৩.
হাঁটিতে হাঁটিতে ঘুরিতে ঘুরিতে
কখনও দেখা হলে
বোঝাবো তখন তোমায় আমি
দুঃখ কাকে বলে
একগাদা প্রেম ভালোবাসা আর
সুখী মুখের আড়ালে
বুঝবে তখন কে কতোখানি
দুঃখ নিয়ে চলে।।

৪.
কার অপেক্ষাতে আছো তুমি
রয়েছো আনমনে কার ভাবনায়
স্বপ্নিল কল্পনার মরীচিকায়
মনের মাঝের সীমারেখায়
পেরিয়ে জীবনের স্রোতধারা
একাকী অসহায় সাথী হারা
দাও, দাও, দাও সাড়া।।

trafficG