আমার ব্লগে আপনাকে স্বাগতম

এই ব্লগে আসার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা যদি ভালো লাগে তবে মন্তব্য দিন। আপনার মন্তব্য আমার লেখা উন্নয়নে সহায়তা করবে। পড়তে থাকুন এবং নিয়মিত চোখ রাখুন।

ফেসবুকে পছন্দ করেছেন

শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০১৪

“যুদ্ধপুরাণ” বাঁধ ভাঙার প্রয়াস


মার্চ মহান স্বাধীনতার মাস। এই স্বাধীনতা খুব সহজে আসেনি। স্বাধীনতা এসেছে অনেক আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে। স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এযাবৎ রচিত হয়েছে অনেক গান, কবিতা, নাটক, উপন্যাস, সিনেমা এবং গল্প। প্রতিটি প্রয়াসই ছিল অনেক চেষ্টা এবং গবেষণার ফসল। কিন্তু এদের মধ্যে ছিল সীমারেখা। যুদ্ধপুরাণ সেই সীমারেখা বা বাঁধ ভেঙ্গে দেয়ার এক ভিন্নধর্মী প্রয়াস।

নাটকটি নির্মিত হয়েছে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পুর্ববর্তী সময়ে মিরপুর এলাকায় পাকিস্তানি আর্মি এবং পাকিস্তান পন্থী অবাঙ্গালী দের দ্বারা সংঘটিত নারকীয় হত্যা যজ্ঞের প্রতিচ্ছবির পটভূমিতে।

নাটকটির মুল আকর্ষন হচ্ছে এর উপস্থাপন। তথাকথিত নাটকের মত আপনি শুধু বসে বসে দেখলেন আর শুনলেন ব্যাপারটা এমন নয়। নাটকটি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করার মত। একটু ধারনা দিলে হয়ত বুঝতে পারবেন, ধরুন আপনি রাতের আধারে কোন এক বধ্যভূমির পাশ দিয়ে খালি পায়ে হাঁটছেন, হঠাৎ আপনার নাকে ভেসে এল কর্পুর আর ধূপের মিশ্র গন্ধ। পায়ের নিচে মাটি হয়ে উঠল শীতল ও স্যাঁতস্যাঁতে। লক্ষ করলেন, আপনার আশেপাশে হাঁটছে লম্বা আলখেল্লা পরিহিত আরও কিছু কায়া, চাঁদের আবছা আলোয় মুখগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যে কোন একটা কায়া এগিয়ে এলো আপনার দিকে, বলে উঠল, আমাকে চিনতে পারছেন কি, চেনার কথাও নয়, আমি আবু তালেব। বলেই হাতটা এগিয়ে দিল, ঘটনার আকস্মিকতায় আপনি কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। অজান্তেই হাতটা বাড়িয়ে ধরলেন সেই হাতটিকে। মৃত মানুষের হাতের মত হিমশীতল হাতের স্পর্শ লাগল আপনার হাতে। চমকে কায়ার মুখের দিকে তাকালেন, চাঁদের অস্পষ্ট আলো আধারিতে ফুটে উঠল ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া লাশের মুখ। আপনার অনুভূতি তখন কেমন হবে একটু ভাবুন তো। এই নাটকে আপনি এই ধরনেরই কিছু অনুভূতি পাবেন। এখানে দেখা হবে সেই নারকীয় হত্যাযজ্ঞে শহীদ হওয়া কিছু নিরপরাধ বাংলাদেশির আত্মার সাথে। আত্মারা আপনার সাথে হাঁটবে। তাদের সাথে ঘটে যাওয়া সেই হত্যাযজ্ঞের বর্ননা দেবে। এখানে আপনি দেখা পাবেন সাংবাদিক আবুতালেব, লেখিকা মেহেরুন নেসা সহ বিভিন্ন পেশাজীবীর আত্মার সাথে। উনারা আপনাকে নিয়ে যাবে সেই জল্লাদখানায়, দেখাবে সেই গণকবর। যেখানে আজো ঘুমিয়ে আছে সেই সব শহীদেরা।

নাটকের সময়কাল মাত্র ২০ মিনিট। কিন্তু আমি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে পারি। এই ২০ মিনিট আপনাকে স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখাবে। আপনার চেতনাকে নাড়া দেবে। গত ২৬ শে মার্চ শিল্পকলা একাডেমীর এক্সপেরিমেন্টাল হলে পরপর ছয়বার মঞ্চায়িত হয় নাটকটি। প্রতিটি শো ছিল হাউসফুল। আমি নিজে খুব বেশি মঞ্চ নাটক দেখেছি তা নয়, খুব কম দেখেছি ব্যাপারটা তা ও নয়। নতুন নতুন প্রচুর আইডিয়ার দেখা পেয়েছি। অনেক ধরনের প্রেজেন্টেশন দেখেছি। কিন্তু যুদ্ধপুরাণ ছিল আমার দেখা সুবিন্যস্ত ভাবে এক্সিকিউটেড একটা সেরা প্রেজেন্টেশন। যেটা বর্ননার চেয়ে বাস্তবে আরও অনেক বেশি অসাধারন। বাঁধ ভাঙার এই প্রয়াস সফল হোক এই কামনা করি। এবং "যুদ্ধপুরাণের" পুরো টিমের প্রতি রইল আমার শ্রদ্ধা এবং অভিনন্দন। স্পেশাল ধন্যবাদ বরুন দা কে, আমাকে এমন একটা উপস্থাপন এর সাক্ষী করার জন্য। 

নাটকটির মুল পরিকল্পনা ও নির্দেশনাঃ আনিসুল হক বরুন।

এবং কলাকুশলীরা বিভিন্ন নাট্য গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত। যেমন নাট্য বিন্দু, নাট্য শৈলী, পদাতিক, দেশ নাটক। থিয়েটার রুপান্তর ইত্যাদি।
সার্বিক সহযোগিতায়ঃ শিল্পকলা একাডেমি এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। 

রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৩

কষ্ট দেবার খেলা..


নিজেকে কষ্ট দেবার খেলায় মেতেছি,

ইচ্ছে করেই জমিয়ে রাখছি কষ্টগুলো,
হয়ত আজকের এই জমানো কষ্টই হবে
বাকি জীবনের পথের পাথেয়।
কারো সাথে ভাগ করে নিচ্ছিনা বা পারছি না,
এ খেলার শুরু যেদিন থেকে,
নিজেই বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি কষ্টের বোঝা,
প্রতিদিন প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে এর ভার;
ঝেড়ে ফেলতে চেয়েও কেন জানি ঝেড়ে ফেলছি না।

কাঁক ডাকা ভোরে বিছানা ছাড়া থেকে
গভীর রাতে ঘরে ফেরা পর্যন্ত চলছে
কষ্ট সংগ্রহের এই নিবিড় অনুশীলন আমার।
নিজের সাথে নিজেই বলছি কথা
আর বাকিটা দিয়ে ভরছে কবিতার খাতা।
কলমের ডগা দিয়েও আজ কেন জানি আসছে না,
আসছেনা আমার পুঞ্জিভূত কষ্টের কথকতা।

হৃৎপিণ্ডের বিরামহীন কম্পনসম,
টিক টিক করে ছুটে চলছে সময় অবিরত
দেখতে না দেখতেই পার হয়ে এসেছি অনেকটা পথ
নিজেরই অজান্তে শুরু হয়েছিল যে পথচলা।
অনেক ভেবে, নিজেকে প্রশ্ন করে করে ক্লান্ত আমি,
উত্তরের অপেক্ষাতে এখন আর থাকি না।

প্রশ্নের পর প্রশ্ন জমিয়ে বুকে গড়েছি বিস্তীর্ণ পর্বত
সেই পর্বতের বিভিন্ন অংশে আছে সুউচ্চ পাহাড়
দু’চোখে জমিয়ে রেখেছি সাগর, আছে নোনা জল
আর এ দু’য়ের মাঝের আকাশে লুকিয়ে আছে,
লুকিয়ে আছে মেঘ হয়ে, কান্না আমার-
ঠিক কখন তা ঝরবে বৃষ্টি হয়ে, তা নিজেই জানিনা। 

আমি ৫২ দেখিনি, দেখিনি ৭১...


মি ৫২ দেখিনি, আমি ৭১ দেখিনি, আমি শুনেছি, পড়েছি সেই কথা, জেনেছি উত্তাল সেই দিনগুলোর দিনপঞ্জি একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার কাছে। আমি জেনেছি পাক হানাদার আর দোসর রাজাকারদের সহিংসতার কথা। আমি জেনেছি অত্যাচারিত নিপীড়িত বাংলার মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর উপ্যাখ্যান। আমি জেনেছি ভাষার জন্য জীবন দেয়া বাঙ্গালির পরিচয়। আমি বুঝতে শিখেছি, জাতিয়তা, আমি বুঝতে শিখেছি পতাকা, আমি অনুভব করেছি স্বাধীনতা। আমি অনুভব করেছি বিজয়। 

আমার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে দেখেছি, শক্ত চোয়াল আর মুষ্টিবদ্ধ হাত হয়ে যেত ৭১ এর গল্প বলার সময়। আমিও উদ্দীপ্ত হতাম, মনে মনে ভাবতাম, আরেকটা সুযোগ পেলে আমি হব মুক্তিযোদ্ধা। আমিও দেশের জন্য প্রান রাখব বাজি। আমিও গর্বিত হব এই দেশ মাতৃকার সুযোগ্য সন্তান হিসেবে। দুর্নীতি আর ফ্যাসিবাদী রাজনীতি কে ঘৃণা করতে শিখেছি। সত্য সুন্দর পথের ঠিকানা জেনেছি। পুরোপুরি না হোক, সাধ্যমত সেই পথে চলার চেষ্টা করেছি। আজ বড় কষ্ট হয় এই ভেবে, এই স্বাধীন দেশে একদল ফ্যাসিবাদী পশু আমাকেও বলে রাজাকার, আমার বাবাকেও বলে রাজাকার।

আমি মুসলমান। খুব গর্ব করে বলি। অনেক বেশি ভাগ্য নিয়ে জন্মেছিলাম বলেই হয়ত, একজন মুসলমান এবং মুক্তিযোদ্ধার ঘরে আমার জন্ম। কিন্তু রাজনৈতিক প্রহসন আমাকে আজ নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। একজন বিখ্যাত লোকের উক্তি শুনেছিলাম, পাগলের রাজ্যে যে নিজেকে মানিয়ে নিতে চায়, সে নির্ঘাত একজন পাগল। আজ নিজেকে কেন জানি পাগল মনে হচ্ছে। আজ এই প্রানপ্রিয় দেশে অসাম্প্রদায়িকতার নামে মানুষের অন্তরে ভাইরাস ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে, মানুষে মানুষে চলছে খুনাখুনি, এক মুসলমান মারছে আরেক মুসলমানকে। নাস্তিকতা ফ্যাশনে পরিনত হচ্ছে। এক ধর্মের বিরুদ্ধে অন্য ধর্মের লোকদের লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে শুধুই রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য। ক্ষমতা এতটাই প্রিয় যে দেশকে সংঘাত এর দিকে, ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতেও কার্পন্য করছে না। 

এই দেশ কি চেয়েছিল মুক্তিযোদ্ধারা? এই দেশের তরুন প্রজন্ম আজীবনই কি রাজনৈতিক ফায়দা লোটার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে? শাহাবাগ আন্দোলনের শুরু আমাকে নতুন দিগন্ত দেখিয়েছিল, সেই দিগন্তের সুর্য উঠার আগেই কিভাবে যেন ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে বাজেয়াপ্ত হয়ে গেল, খুব কষ্ট পেয়েছিলাম তখন। আজও পাচ্ছি প্রতি মুহুর্তে। আর কতকাল ধর্মের নামে, দেশের নামে কাদা ছোড়াছুড়ি আর নোংরামি চলবে। আর এই নষ্টামিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ এই দেশ আর ধর্ম। তরুন সমাজ কি কখনও নিজের হৃদয়ের কথা শুনবে না? আজীবন কি তারা রাজনৈতিক কলের পুতুলই হয়ে থাকবে? আমি আশাবাদী। আমি হতাশ হতে চাই না। আমি চাই তরুণরা জেগে উঠুক। সত্যিকারের জেগে উঠা। এই দেশে আবারও প্রতিষ্ঠিত হোক আইনের শাসন। যতদিন এই দেহে থাকবে প্রান, সোনার বাংলা দেখার স্বপ্নেই বেঁচে থাকব আমি।

উৎসবমুখর নৈরাজ্য

একটা কবিতা লিখব বলে
কবিতার খাতা নিয়ে বসি
মনের ভিতর উঁকি দিয়ে দেখি
ভেতরটা শুন্য, অন্ধকার আর নিরুত্তর
ভেবে ভেবে ভাবনার ছেঁড়া সুতো নিয়ে
আরও বেশি ভাবনায় ডুবে যাওয়া
আস্তে আস্তে তন্য তন্য করে খুঁজে ফেরা
শব্দরা ডুবে আছে সেই নিস্তব্ধ অন্ধকারে।

তোমাকে ভাবার চেষ্টা করলাম বেশ করে
তোমার চোখ, তোমার ঠোঁট, তোমার নৈরাজ্য
যেন ভাবনাকে আরো বেশি ধোঁয়াটে করে
তুমিও যেন আমার নিরবতা নিয়ে মেতে আছ
মেতে আছ উৎসবমুখর নৈরাজ্যে।

ভাবতে ভাবতেই দুচোখে ভর করে ঘুম
যেন ঘুমাইনা কত সহস্র বছর ধরে
আলতো করে বন্ধ দুচোখের ক্যানভাসে
জল রঙ্গে মনের তুলিতে আঁচর কাটি
শত চেস্টাতেও ফোটেনা কোন অবয়ব
ঘিরে ধরে ক্লান্তি, ধ্যানমগ্নতা থেকে গভীর ঘুমে
নিজেকে সঁপে দিয়ে হই নিথর, নির্বাক
শুন্য থাকে আমার শখের কবিতার খেরোখাতা।

শুক্রবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৩

হৃদয় বনাম মন

কটু ভূমিকা দিয়েই শুরু করতে চাইঃ 

“আমার এই লেখাটিকে শিরোনাম দেখে স্রেফ প্রেমের গল্প ভেবে ভুল করার কোন কারন নেই। কারন Never judge a book by it’s cover.” বাকিটুকু পড়ার আমন্ত্রন জানাই।
আমাকে কিছুদিন আগে একজন প্রশ্ন করেছিল, “মানুষ কি পা দিয়ে হাঁটে না মাথা দিয়ে হাঁটে?” আপাতদৃষ্টিতে প্রশ্নটি অবান্তর মনে হলেও একটু গভীরে গেলে এর চমৎকার কিছু বাস্তবতা পাওয়া যাবে। আসুন একটু গভীরে যাই।

## আমাদের সারা শরীরে ছড়িয়ে আছে স্নায়ুতন্ত্র(Nervous System)। যার ক্ষুদ্রতম একক হল নিউরন। অনেকেই ভাবতে পারেন যে নিউরন কেবল আমাদের ব্রেইনে থাকে। কিন্তু আমাদের সারা শরীরেই ছড়িয়ে আছে এই নিউরন (neuron)। অর্থাৎ নিউরন হচ্ছে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষুদ্রতম একক।


এই Nervous system কে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়,
1.Central nervous system
2.Peripheral nervous system.

সিগন্যাল ট্র্যান্সফরমেশন এর উপর ভিত্তি করেও দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়,
1.Motor
2.Sensory


সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম গঠিত হয় ব্রেইন এবং স্পাইনাল কর্ড দিয়ে। আর পেরিফেরাল নার্ভাস সিস্টেম ছড়িয়ে থাকে সারা শরীরে। প্রতিটি নিউরন যদিও নিরবচ্ছিন্ন ভাবে পারস্পরিক সম্পর্ক যুক্ত মনে হয়, কিন্তু একটি নিউরনের আক্সন এবং অন্য নিউরনের ডেন্ড্রাইট এর মাঝে সুক্ষ ফাঁকা বিদ্যমান। যাকে বলা হয় synapses.


আমাদের ব্রেইনে যে কোন সিগন্যাল যে নিউরন সেটের মাধ্যমে পৌঁছায়, তাদেরকে “সেন্সরি” বলা হয়। এবং ব্রেইন থেকে যে সিগন্যাল স্পাইনাল কর্ড হয়ে শরীরের অন্য কোন স্থানে পৌঁছায় তাকে “মোটর” বলা হয়। অর্থাৎ আপনি আগুনের কাছে হাত নিয়ে গেলে, আগুনের সংস্পর্শে আসা অংশের নিউরন ব্রেইনে সিগন্যাল পাঠাবে অবস্থার বিবরন দিয়ে, এই সিগন্যালই হচ্ছে “সেন্সরি”। আপনার ব্রেইন তখন সেই সিগন্যালকে এনালাইসিস করে ব্রেইন হাতকে সিগন্যাল পাঠাবে যে হাত সরিয়ে নাও। এই সিগন্যাল কে বলে মোটর। নিউরন গ্যাপে থাকে একধরনের ক্যামিক্যাল সাবস্টেন্স যাকে বলা হয় নিউরোট্রান্সমিটার (ছবিতে লাল লাল দানাগুলো)। আমাদের দেহে দুই ধরনের নিউরোট্রান্সমিটার আছে।

1. Excitatory Neurotransmitter (Acetylcholine, Epinephrine, Serotonin, Endorphin, Prostaglandin etc. )

2. Inhibitory Neurotransmitter (GABA, Glycine etc. )

ব্রেইনের কাজ হচ্ছে Controlling & Coordinating. এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে আপনাদের কাছে আছে গুগল নামের চেরাগের দৈত্য। হুকুম করলেই হাজির।
আসুন এবার দেখে নেই, আমাদের বিভিন্ন অরগ্যান এর উপর নার্ভাস সিস্টেম এর অবস্থার প্রভাব। অর্থাৎ Sympathetic vs Parasympathetic state of nervous system


বোঝাই যাচ্ছে যে আমাদের মন বা mind বলতে যা বোঝানো হয়, তা মুলত হৃদয় (Heart) নয়, ব্রেইন। এবার আসুন দেখে নেই হৃদয়(Heart) এর উপর ব্রেইন এর প্রভাব,


অর্থাৎ ব্রেইনের উত্তেজিত স্টিমুলেশন এ হৃদ স্পন্দন বৃদ্ধি পায়। তাই অনেকের কাছে মনে হয় ঘটনাটা হৃদয় ঘটিত। আসলে ঘটনা তো ব্রেইন ঘটিত। তেমনি আমাদের ব্রেইনের বিভিন্ন স্টিমুলেশনের কারনে বিভিন্ন গ্রন্থি থেকে গ্রন্থিরস নিঃসৃত হয় যা আমাদের হৃদয়ের স্পন্দনে তারতম্য ঘটায়।


মুলত হৃদয়ের কোন ইন্টিলেঞ্জেসি নাই। এটা স্রেফ একটা পাম্পিং মেশিন মাত্র। যত ভালবাসার গান, অনুভব, অনুভূতি কোনটাই কিন্তু হৃদয়ে নাই। হৃদয় অনেকটা বোকা বাক্স। অনেকেই বলেন, কিছু সিদ্ধান্ত হৃদয় দিয়ে নাও। কিন্তু দুঃখের বিষয় এটাই যে হৃদয় দিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়াই সম্ভব না।


তেমনি আমাদের হাত পা বা অন্যান্য কোন অর্গ্যান এর ই তেমন উল্লেখযোগ্য কোন ইন্টেলিজেন্স নেই। তাই, আমরা মাথা দিয়ে হাঁটি বললেও যুক্তি দিয়ে সেটা প্রমান করা সম্ভব।

(আমার জানার মধ্যে ঘাটতি থাকতেই পারে। আমি সবজান্তা নই। আরও ভালো এবং প্রয়োজনীয় তথ্য কারো কাছে থাকলে অবশ্যই শেয়ার করবেন মন্তব্য এর ঘরে।)

trafficG