আমার ব্লগে আপনাকে স্বাগতম

এই ব্লগে আসার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা যদি ভালো লাগে তবে মন্তব্য দিন। আপনার মন্তব্য আমার লেখা উন্নয়নে সহায়তা করবে। পড়তে থাকুন এবং নিয়মিত চোখ রাখুন।

ফেসবুকে পছন্দ করেছেন

সোমবার, ২৩ মে, ২০১১

Paulownia Tree in Bangladesh


বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় পাউলোনিয়া (Paulownia) ট্রি


পাউলোনিয়া বীজ
এটি ফিনিক্স, প্রিঞ্চেস বা রয়াল এম্প্রেস বৃক্ষ হিসেবে পরিচিত। প্রায় ২৬০০ বছর ধরে চীনে চাষ হয়। আমেরিকাতে আসে ১৮০০ সালের মাঝামাঝি। আমেরিকাতে এই গাছের অনুপ্রবেশ এর ঘটনাটিও চমৎকার। এই গাছের বীজ খুবই হাল্কা। ১.৭ মিলিয়ন বীজের ওজন মাত্র ১ পাউন্ড। চীনা ব্যবসায়ীগন চিনামাটির বাসন, কোসন পরিবহনের জন্য এই গাছের বীজ ব্যবহার করত। আমেরিকান উপকূলে একজন চীনা ব্যবসায়ী তার বাসন, কোসন এর বাক্স খোলা মাত্রই কিছু বীজ বাতাসে উড়ে গিয়ে সমুদ্রে পড়ে এবং জলে ভেসে সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় গিয়ে বৃক্ষরূপ ধারন করে। আমেরিকা সরকারের নজর পড়ার পর থেকেই এটা আমেরিকার বিভিন্ন প্রদেশে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। এই গাছের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন ও জাপান।
 
পাউলোনিয়া ফুল যা থেকে মধু উৎপন্ন হয়
চীনে এই গাছ নিয়ে একটি গল্প প্রচলিত আছে যে, একসময় চীনে কোন বাড়িতে কোন মেয়ে জন্মগ্রহন করলে, সেই বাড়ির উঠানে একাধিক পাউলোনিয়া গাছ লাগানো হত। মেয়ের সাথে সাথে গাছ ও বড় হত। সেই মেয়ের বিয়ের সময় ওই গাছ কেটে তা দিয়ে আসবাবপত্র বানিয়ে মেয়ের সাথে দেয়া হত। এতে করে সেই মেয়ের প্রতি ফিনিক্স এর আশীর্বাদ থাকত এবং সংসার সুখের হত।

শ্রেণীবিভাগঃ
উদ্ভিদ জগত    -   প্ল্যান্ট
বর্গ              -   ল্যামিয়ালিস
পরিবার         –   পাউলোনিয়াসি
গন              –   পাউলোনিয়া
পাউলোনিয়া গাছের অনেক গুলো প্রজাতির মধ্যে মূল প্রজাতি ৭টি।
1.  Paulownia Tortunei    
2.  Paulownia Tomentosa    
3.  Paulownia Kawakamji     
4.  Paulownia Elongata   
5.  Paulownia Catapifia  
6.  Paulownia Fargesil   
7.  Paulownia Taiwaniana

 
পাউলোনিয়া গাছ ও কাঠের বৈশিষ্ট্যঃ
 
পাউলোনিয়া গাছ বীজ থেকে উৎপাদন করা বেশ সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য কিন্তু রুট বা শেকড় থেকে এই গাছ খুব ভালো হয়। শেকড় থেকে উৎপন্ন গাছের মানও ভালো হয় এবং আসল জাতের গুনাগুন বজায় থাকে। এছাড়াও এই গাছের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য গুলো হচ্ছে –
১. এই গাছ খুব কম সময়ে দ্রুত বাড়ে। ছবি দেখুন
২. পরিপূর্ন বৃক্ষের উচ্চতা প্রায় ৭৫-৮০ ফিট (৩-৫ বছরে)। ১বছরে প্রায় ১৫-১৮ ফিট হয়।
৩. গাছ কেটে ফেলার পর সেই গাছের শেকড় থেকে আবার গাছ জন্মায়। এজন্য কোনোপ্রকার জমি প্রস্তুত করার প্রয়োজন নেই। এভাবে ৪ বার কাঠ সংগ্রহ করা যায়।
৪. এই গাছ বেড়ে উঠে গিঁটমুক্ত ভাবে। এইজন্য এই গাছের কাঠ খুব উন্নত মানের হয়।
৫. এই গাছের কাঠ শাল, সেগুন বা মেহগনি গাছের কাঠের চেয়েও হাল্কা এবং শক্ত। এর আপেক্ষিক গুরত্ত পানির চেয়ে ২০-৩০ শতাংশ কম।
৬. চিমনী যুক্ত চুলার সাহায্যে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় এই কাঠ শুকানো যায়। বাতাসে শুকাতে ৩০ দিন লাগে।
৭. এই কাঠ তাপ কুপরিবাহী। ০-৪৭৭ ডিগ্রি তাপমাত্রায়ও এই কাঠে আগুন ধরে না।
৮. আদ্রতার তারতম্যের মধ্যেও বর্ধিত বা সংকুচিত হয় না।
৯. এই কাঠে কোন ধরনের পোকা ধরে না।
১০. সহজে পেরেক পোঁতা যায়, কাঠ ফাটে না।
১১. কাঠের রঙ হয় হাল্কা সোনালী বা সাদা। এতে যেকোনো বার্নিশ বা রঙ করা যায়। এবং এটা পেপার, গ্লাস এর কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পাউলোনিয়া কাঠ রঙ ছাড়া এবং রঙ বা বার্নিশ করা

পাউলোনিয়ার কাঠের ব্যবহারঃ

মসৃণ আসবাবপত্র, বাদ্যযন্ত্র ইত্যাদি তৈরি করার জন্য প্রাচ্যে ১০০০ বৎসর যাবত এই গাছ ব্যবহার হয়ে আসছে। সার্বিক ভাবে এই গাছের নানাবিধ ব্যবহার রয়েছে। যেমন-


১.বিল্ডিঙের ডেকোরেশন
২.ক্যাবিনেট তৈরি        
৩.কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি
৪.ভিনিয়ার বোর্ড তৈরি
৫.বাদ্যযন্ত্র তৈরি
৬.ভেনিসিয়ান ব্লাইন্ড তৈরি
৭.জলযান তৈরি
৮.বিমানের পাটাতন ও আসবাব তৈরি
৯.রেলগাড়ির আসবাব তৈরি
১০.বাসের কাঠামো  তৈরি
১১.কফিন তৈরি
১২.ক্যারাভ্যান তৈরি
১৩.প্লাই-উড তৈরি
১৪.জুতার সোল তৈরি
১৫.বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র
 
পরিবেশে পাউলোনিয়া বৃক্ষের অবদানঃ
১.পাউলোনিয়া গাছের পাতা খুব বড় ও মাংশালো যা প্রচুর কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে (বছরে প্রায় ৪৮ পাউন্ড)।
২.এর পাশাপাশি প্রচুর অক্সিজেন পরিবেশে মুক্ত করে (বছরে প্রায় ১৩ পাউন্ড)।
৩.মাটির পানীয় বর্জ্য শোষণ করে (প্রতিদিন প্রায় ২৪ গ্যালন)।
৪.মাটির লবনাক্ততা কমায়।
৫.এর গভীর শিকড় মাটির গুনগত মান নিয়ন্ত্রন করে।
৬.ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যাবস্থাপনায় বিশেষ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশে পাউলোনিয়া সম্ভাবনাঃ
১.পাউলোনিয়া গাছ জন্মানোর জন্য বালি এবং দো-আঁশ মাটি খুব উপযোগীআর তাই বাংলাদেশের উরবর মাটি এই গাছের জন্য উপযুক্ত।
২.এটি ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়া বা পরিবেশে জন্মাতে পারে।
৩.এই গাছের পাতা উচ্চ মাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ পশুখাদ্য।
৪.এই গাছ জন্মানোর জন্য মাটির ph 5.5-6.5 প্রয়োজন হয়। যা বাংলাদেশের মাটিতে আছে।
৫.এই গাছ দ্রুত বর্ধনশীল এবং এই গাছের কাঠের আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্য রয়েছে।
৬.একটি গাছ থেকে ৬-৮ বছরে প্রায় ৮০-১০০ বোর্ড ফিট (১” x ১২” x ১২”) কাঠ পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি বোর্ড ফিট কাঠের মূল্য $২ থেকে $১০
৭.এই গাছের ফুল থেকে মধু তৈরি হয়, যা ডায়াবেটিক রোগীরাও খেতে পারবে। এছাড়াও এই ফুল থেকে সুগন্ধি এবং ওয়াইন তৈরি হয় যার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
পাউলোনিয়া মধু এবং ওয়াইন
৮.এই গাছ বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
অর্থাৎ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার সাথে সাথে এই গাছ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
৩ বছর বয়সী পাউলোনিয়া গাছ

পাউলোনিয়া গাছে কিছু নমুনা বিনিয়োগঃ

প্রতি প্যাকেজে ১৫ টি রুট বা শিকড়, দাম ৮৫০০ টাকা।
প্রতি প্যাকেজে জায়গা লাগবে ৫ শতাংশ
বিনিয়োগ
(টাকা)
প্যাকেজ
সংখ্যা
রুট বা শেকড়
মোট মুনাফা
(৬-৮ বছর পর)
৫৯,৫০০
৭ টি
১০৫ টি
১০,৫০,০০০ ৳
১৭০,০০০
২০ টি
৩০০ টি
৩০,০০,০০০ ৳
২,৫০,০০০
৩০ টি
৪৫০ টি
৪৫,০০,০০০ ৳
৫,০০,০০০
৬০ টি
৯০০ টি
৯০,০০,০০০ ৳
১০,০০,০০০
১২০ টি
১৮০০ টি
১,৮০,০০,০০০ ৳

এই গাছ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য নিচের এই লিঙ্কগুলোতে ক্লিক করুন

" মোঃ আল ইমরান "
Cell:
01911115315
01670287630
Email:
e_hasan48@yahoo.com
e.hasan48@gmail.com

এই মুহুর্তে আমাদের কাছে সরবরাহ নেই। সরবরাহ এলে এই পোষ্টের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।  
Protected by Copyscape Web Plagiarism Finder

trafficG