আমার ব্লগে আপনাকে স্বাগতম

এই ব্লগে আসার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা যদি ভালো লাগে তবে মন্তব্য দিন। আপনার মন্তব্য আমার লেখা উন্নয়নে সহায়তা করবে। পড়তে থাকুন এবং নিয়মিত চোখ রাখুন।

ফেসবুকে পছন্দ করেছেন

বুধবার, ১২ জুলাই, ২০১৭

বুদ্ধিজীবীরা নাগরিক নয়-২ (যে কথা যায় না লেখা)

আমি সুবোধ নই,
পালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আমার নেই।
দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিটি একে
অক্ষমতাকে শিল্পে রুপ দেয়ার আগ্রহও নেই।

নগরায়নের অপূর্নতা অথবা অযোগ্যতায় ঘেরা,
শত শত হাহাকার আর আর্তনাদে মোড়া
কখনোবা নবজাতকের কান্নায় উদ্বেলিত এই নগর।
প্রতিনিয়ত শোনায় নতুন যুদ্ধের গল্প।

যুদ্ধ করে বেচে থাকাই এই নগরের আইন
হাজারো অসন্তোষ ঘোরে ল্যাম্পপোস্টের আলোয়
তবুও এই নিয়ন আলোতেই কেও ঘুমিয়ে পড়ে
নতুন দিনের স্বপ্ন আসে ঘুমের ঘোরে।

এই নগরের পরিচিত অভিজাত নাগরিক পল্লীতে
সারাদিন চলে চেতনার গলাবাজি।
আভিজাত্যের মুখোশ খসে পড়ে সন্ধ্যা হলেই
আওড়ানো বুলি আর বাস্তবতায় অমিল অনেক।

কত শত আয়নাবাজি নগরজুড়ে প্রতিক্ষন
দিন বদলের স্বপ্ন দেখা একরোখা আমি
হয়ত অবাঞ্ছিত আজ তোমাদের নগরে।
আমি যোদ্ধা, আমি নাগরিক নই, আমি বুদ্ধিজীবী।
আর বুদ্ধিজীবীরা নাগরিক নয়, কখনই নয়।

শুক্রবার, ৭ জুলাই, ২০১৭

বুদ্ধিজীবীরা নাগরিক নয়

একজন বুদ্ধিজীবির কথায়
কষ্ট পেয়ে অযথাই
হারিয়ে যাবার চেষ্টায়
একজন নাগরিক।
বুদ্ধিজীবিরা নাগরিক নয়,
তারা বিদ্রোহী,
তারা কুলাঙ্গার।

বুদ্ধিজীবিরা গুলিয়ে ফেলে না
আবেগের সাথে চিন্তাশক্তিকে।
বুদ্ধিজীবিরা বুদ্ধি খরচ করে,
বিবেক বিসর্জন দিয়ে বেচে দেয় না।

আর এই সব নাগরিকেরা,
নগর নিয়ে গর্ব করে।
যদিও অসভ্য হতে সভ্যতার রুপায়ন
আর এই নগরের নগরায়নে
বুদ্ধিজীবিরাই দায়ী।

তবুও বুদ্ধিজীবিরা কুলাঙ্গার,
এরা নাগরিক নয়।
নগরের প্রতিটি নাগরিক ভালো থাক
বুদ্ধিজীবিরা মরে যাক।

শনিবার, ২৭ মে, ২০১৭

ইচ্ছে যত তোকে নিয়ে

ইচ্ছে করে তোর বুকে দেই গুঁজে এক গুচ্ছ সুখ,
ইচ্ছেগুলো আলতো আলোয় ভরিয়ে দেয় চোখ,
ইচ্ছে জানে প্রেমের মানে, ইচ্ছে অবিরাম
ইচ্ছে হলেই তোকে ছুঁয়ে বলি এবার থাম।

তোকে দেয়া ইচ্ছেগুলো ইচ্ছেঘুরির মত
ঘুরে ফিরে গোত্তা খেয়ে হারায় মনে কত,
তোর ললাটে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়ানো সুখ
ওই কপোলে ইচ্ছে রেখে লজ্জানত মুখ।

ইচ্ছে গুলো রাখবো বেধে, একবার তুই বল,
বেপরোয়া ইচ্ছে শুধু সঙে আমার চল
তোর ঐ চুলে ইচ্ছে নিয়ে আকাশ ভরা মেঘ
অপূর্ণ আজ ইচ্ছে কিছু অপূর্ণ আবেগ।

বৃষ্টি হব তোর ইশারায়, ইচ্ছে কি তোর বল
সেই বরষায় ছন্দে দুলে বাজবে পায়ের মল
তোর সারা গায় পরবো ঝরে বৃষ্টি জলের মত
ইচ্ছে হলেই হাত বাড়িয়ে ডাকবি পারিস যত।

তুই তাকালে ইচ্ছে মনে জাগ্রত দিনরাত
শুকনো ঠোঁটে আস্তে বলা, আজকে না হয় থাক।
ইচ্ছেগুলো আঁকড়ে ধরে, ইচ্ছে নদীর জলে
কাটবো সাতার তোকে নিয়ে ইচ্ছে হল বলে।

বুধবার, ৩০ মার্চ, ২০১৬

সাজেক ট্যুর!! এপিসোড-২


গাড়ির জন্য কমলাপুর অপেক্ষা করছি আমি আর সাজ্জাদ
কাউসার ভাই চিটাগাং আরো স্পেসিফিক বললে ফটিকছড়ির ছেলে। ফটিকছড়ি আর খাগড়াছড়ি পাশাপাশি। খাগড়াছড়িতে উনার এক ভাই থাকেন। ওখানেই ব্যবসা করেন। কাউসার ভাইয়ের বদৌলতে সাজেকের রিসোর্ট বুকিং, চাঁদের গাড়ি বুকিং, বারবিকিউ এরেঞ্জমেন্ট, চিটাগাং এ হোটেল বুকিং, মাইক্রো বুকিং, ট্যুর প্ল্যান বা মিশনের নীল নক্সা করা হয়ে গেল। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি বাস টিকিট শিমুল ভাই এরেঞ্জ করে ফেললেন। আমাদের প্ল্যান হল, ১৬/০৩/২০১৬ তারিখ রাতে ঢাকা থেকে বাসে খাগড়াছড়ি। সেখান থেকে চাঁদের গাড়িতে দীঘিনালা নেমে কিছু কেনাকাটা যেমন বারবিকিউ এর জন্য মুরগী, পানি, শুকনো খাবার, ইত্যাদি। সেখান থেকে সাজেক ভ্যালী। সাজেক ভ্যালীতে আমরা ১৭ তারিখ রাত থাকবো। ১৮/০৩/২০১৬ তারিখ সকালে রওয়ানা হয়ে আবার খাগড়াছড়ি, পথে আমরা ঘুরব আলুটিলা গুহা, রিসাং ঝরনা এবং হর্টিকালচার পার্কের ঝুলন্ত ব্রিজ। রাতেই রওয়ানা হব চিটাগাং এর উদ্দ্যেশে। ১৮ তারিখ রাতে চিটাগাং হোটেলে থেকে ১৯ তারিখ সারা দিন চিটাগাং ঘুরে দেখব, যাতে থাকবে, ফয়স লেক, ভাটিয়ারী মিলিটারি একাডেমী, পতেঙ্গা। ১৯ তারিখ রাতের ট্রেনে ঢাকা ফিরব। প্ল্যান প্রোগ্রাম শেষ করে শুরু হয় কেনাকাটার পালা। যেহেতু লং জার্নি কিছু কেনাকাটা তো করতেই হয়। কেনাকাটার ব্যাপারে আযম ভাই আর মাসুদ ভাইয়ের সে কি উৎসাহ। আমি ছিলাম সেই উৎসাহে যোগান দাতা।  
গামছা কেনার সময় ট্রায়াল দিচ্ছেন শিমুল ভাই.. 

প্ল্যান হল সবাই এক কালারের টি-শার্ট আর গামছা কিনব। টি-শার্টের কালার নিয়ে লাগলো প্যাঁচ। মাসুদ ভাইয়ের পছন্দ পার্পেল তো আযম ভাইয়ের পছন্দ মিষ্টি কালার, শিমুল ভাইকে স্কাই ব্লুতে নাকি বেশি মানায়। গামছার কালার লাল বা সবুজ এই নিয়ে কারো সমস্যা ছিল না। ফাইনালি গামছা কিনতে গিয়ে দেখা গেল একই কালারের অর্থাৎ ১২ টা লাল বা ১২ সবুজ পাচ্ছি না। শেষে সিদ্ধান্ত হল ৬ টা লাল আর ৬ টা সবুজ নেব। ফাইনালি টি-শার্ট কিনতে আবার সমস্যা, আমাদের সিলেকশনের কনফিউশনে এক কালারের যে টি-শার্ট আমরা পছন্দ করেছি সেটা ১২ পিস বিভিন্ন সাইজ মিলিয়ে দেয়া যাবে না। সারা মার্কেটে নাই। শেষে আমি বুদ্ধি দিলাম, যারা সবুজ গামছা তাদের লাল টি-শার্ট আর যাদের লাল গামছা তাদের সবুজ টি-শার্ট। শিমুল ভাই আমি ফোনে মাসুদ ভাই, আযম ভাইয়ের সাথে কথা বলে এটা ফাইনালি কিনে ফেললাম।

দেখতে দেখতে ১৬ তারিখ চলে এলো। আমাদের বাস ছিল রাত ১০.৩০ টার শ্যামলী। সাড়ে ১০ টায় কলাবাগান থেকে আযম ভাই, আহাদ ভাই, ইমদাদ ভাই, শিমুল ভাই, মাসুদ ভাই, ইমন, গাড়িতে উঠে, ১১.১৫ তে আমি, সাজ্জাদ, সজীব ভাইকে কমলাপুর থেকে তুলে রওয়ানা হল আমাদের স্বপ্ন গাড়ী। শ্যামলী গাড়িটার ড্রাইভার খুব এক্সপার্ট অথবা পাগলাটে ছিল। তার গাড়ী চালানোর ভঙ্গিতে আমি ছাড়া সারারাত আর গাড়িতে কেউ ঘুমুতে পারেনি। 


ভোর বেলায় যখন খাগড়াছড়ির কাছাকাছি
এই আমাদের চাঁদের গাড়ি
সকাল বেলা খাগড়াছড়ি নেমেই কাউসার ভাইয়ের উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলাম। উনি আমাদের জন্য বাসস্টপেই অপেক্ষা করছিলেন। কাউসার ভাইয়ের বড়ভাইয়ের বাসায় ব্যাগপ্যাক রেখে আমরা ফ্রেশ হয়ে সকালের নাস্তা করে নিলাম। খাগড়াছড়ি থেকে চিটাগাং এর অগ্রিম টিকিট কেটে রাখলাম। এর মাঝেই আমাদের চাঁদের গাড়ী নিয়ে ড্রাইভার শিবু উপস্থিত। সারা ট্রিপে শিবু আমাদের অসাধারন সার্ভিস দিয়েছে এবং আমাদের লোকাল গাইড হিসেবে কাজ করেছে। সবার ব্যাগপ্যাক গাড়িতে তুলে দিয়ে আমারা গাড়ি চেপে বসলাম। গাড়ী ছেড়ে দিল সাজেকের উদ্দ্যেশ্যে। 

মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ, ২০১৬

সাজেক ট্যুর!! এপিসোড-১


সাজেক!! খাগড়াছড়ি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার পাহাড়ঘেরা অনিন্দ্য সুন্দর একটা যায়গা। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা আর দুর্গম রাস্তা হওয়া সত্তেও প্রচুর পর্যটক আসেন সাজেক ভ্যালীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে। ফেসবুকে ছবি দেখে দেখে সাজেক যাওয়ার ইচ্ছেটা মনের কোন জমে উঠেছিল অনেক আগেই। পরিবেশ, পরিস্থিতি, সময় সবমিলেয়ে ব্যাটে বলে হচ্ছিল না। সোনালী ব্যাংকার্স ফেসবুক গ্রুপ থেকে কিছুদিন আগে নৌবিহার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই আয়োজনের আয়োজক কমিটিতে আমার থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল। সফলভাবে সেই আয়োজন করতে গিয়ে আয়োজক কমিটিতে থাকা সহকর্মীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। আয়োজন চলাকালীন ফেসবুক গ্রুপ চ্যাটে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত কত কত প্ল্যানিং, আড্ডা, আলোচনা আমরা করেছি তার হিসেব নেই। সেই সফল আয়োজন শেষে আমরা উপলব্ধি করলাম, আয়োজন করতে গিয়ে নিজেরা উপভোগ করতে পারিনি। তাই শিমুল ভাইয়ের প্রস্তাব ছিল, নিজেরা একটু আনন্দ করতে এবং আমাদের মধ্যকার গড়ে উঠা এই সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করতে সাজেক ট্যুরের আয়োজন করলে কেমন হয়!! আমার মত অনেকের মনের কোনেই হয়ত এই সুপ্ত বাসনাটা লুকায়িত ছিল। তাই প্রস্তাবনার পর পরই বলা যায় সাথে সাথেই আমি, জসিম ভাই, মিজান ভাই মিলে একটা কবিতা লিখে ফেললাম।

শীতের শেষে পাহাড়ে, ঘুরতে যাব আহারে,
দেখবো আকাশ,দেখবো মেঘ,আনন্দ কই কাহারে!
মুগ্ধ হব ঝলমলে ঐ নীল আকাশের বাহারে,
গোমড়া মুখে যে জন থাকে আনন্দ দেই তাহারে।
পাহাড় বেয়ে রাস্তা ধরে চলছে চাঁদের গাড়ি,
রাখালিয়ার বাঁশি শুনি,কোথায় যে তার বাড়ি!
স্নিগ্ধ হাওয়ার স্নিগ্ধ ছোয়ায় মন মজেছে আজ।
গোধূলিতে দেখবো যে আজ সাজেক বধূর সাজ।
ধিতাং ধিতাং মাদল বাজে,সাথে বাঁশির সুর,
দুচোখ ভরা স্বপ্ন শুধু আনন্দে ভরপুর।
পাহাড় তোমার ছোঁব আজি,তুমি কতদুর?
এই যে দেখ এনেছি আজ সোনালী রোদ্দুর।
আজি জ্যোৎস্না শুধুই মোদের তরে,আমরা দামাল দল।
ঘুম হবে না,জাগবো রাতি,জ্যোৎস্না বিহার চল।
হাটবো পথে দেখবো চাঁদ,হোকনা আরো গভীর রাত,
ঝি ঝি পোঁকার গান শুনবো,দূর পাহাড়ে বাঁশির সুর
পড়বে গলে আকাশ থেকে সাতরঙা রঙ রংধনুর
চাঁদের আলোয় করব স্নান,কে কে যাবি সাজেক ট্যুর!!


লিখে ফেলা এই কবিতা যেন সবাইকে সাজেকের পথে আরেক ধাপ স্বপ্নাতুর করে ফেলল। আযম ভাই, শিমুল ভাই, কাউসার ভাই তো রীতিমত প্ল্যান করা শুরু করে দিল। আস্তে আস্তে সেখানে যুক্ত হল ইমদাদ ভাই, মাসুদ ভাই, বন্ধু সাজ্জাদ, সজীব ভাই, আহাদ ভাই। আমাদের এই সাজেক আলোচনার জন্য সাজেক ট্যুরের পোলাপাইন নামে ম্যাসেঞ্জারে রীতিমত একটা চ্যাট রুম খোলা হল।  কামরুল ভাই এই সুযোগে ইচ্ছে আরো চাগিয়ে দিয়ে তার সাজেক স্মৃতিচারন করতে লাগলো। আমাদের তখন চোখে ভাসছে শুধু পাহাড় আর আকাশের মাঝে মেঘের রাজ্য সাজেক।

trafficG